টুইটারকে জরিমানা! খুশি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী

আজ শুক্রবার টুইটারের আবেদনকে মান্যতা দিল না আদালত। খালি হাতেই ফিরতে হল এই তথ্য প্রযুক্তি সংস্থাকে। টুইটারের আবেদন খারিজ করে দিল কর্ণাটক আদালত।

author-image
SWETA MITRA
আপডেট করা হয়েছে
New Update
ashwini.jpg

নিজস্ব সংবাদদাতাঃ কর্ণাটক হাইকোর্টে বড়সড় ধাক্কা খেল টুইটার (Twitter)। কর্ণাটক হাইকোর্ট শুক্রবার ইলেকট্রনিক্স এবং তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রকের কনটেন্ট অপসারণ ও ব্লক করার আদেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে টুইটার ইনকর্পোরেটেডের দায়ের করা পিটিশন খারিজ করে দিয়েছে।  এদিকে এই প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানালেন কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব (Ashwini Vaishnaw)। তিনি এদিন সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে জানিয়েছেন, "আদালত আমাদের অবস্থানকে সমর্থন করে। দেশের আইন সকলকেই মেনে চলতে হবে।“ 

 

আদালত বলেছে, কোম্পানির আবেদনের কোনো ভিত্তি নেই। বিচারপতি কৃষ্ণা এস দীক্ষিতের একক বেঞ্চ টুইটারকে ৫০ লক্ষ টাকা জরিমানা করেছে এবং ৪৫ দিনের মধ্যে কর্ণাটক রাজ্য আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। টুইটারের আবেদন খারিজ করে দিয়ে বিচারক বলেন, "আমি কেন্দ্রের এই যুক্তির সঙ্গে একমত যে তাদের টুইট ব্লক এবং অ্যাকাউন্ট ব্লক করার ক্ষমতা রয়েছে।“

 

বিচারপতি কৃষ্ণা এস দীক্ষিত বলেন, ‘সময়মতো ব্লক করার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি মেনে না চলার কারণ তারা নির্দিষ্ট করেননি।‘ রায়ের অপারেটিভ অংশগুলির কথা উল্লেখ করে বিচারপতি এস দীক্ষিত বলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের এই অবস্থানে তিনি নিশ্চিত যে টুইট ব্লক করার পাশাপাশি  অ্যাকাউন্ট ব্লকও করতে পারে। গত বছর তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৬৯এ ধারায় ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের জারি করা আদেশকে চ্যালেঞ্জ করেছিল টুইটার। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে বেশ কয়েকটি সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট এবং টুইট ব্লক করতে টুইটারকে নির্দেশ দিয়েছিল কেন্দ্র। এর মধ্যে ৩৯টি ব্লকিং আদেশকে চ্যালেঞ্জ জানায় টুইটার।

 

আদালত আরও ইঙ্গিত দিয়েছে যে বিদেশী সংস্থা হিসাবে টুইটার ভারতের সংবিধানের ১৯ এবং ২১ অনুচ্ছেদের অধীনে ভারতের নাগরিকদের দেওয়া মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতার অধিকার দাবি করতে পারে না।

 

কেন্দ্রীয় সরকার এই বিষয়ে বিদেশী সংস্থা হিসাবে টুইটারের এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল এবং যুক্তি দিয়েছিল যে তারা অনুচ্ছেদ ১৯ এবং অনুচ্ছেদ ২১ এর সুবিধা নিতে পারে না।

 

সরকার আরও যুক্তি দিয়েছিল যে টুইটার এবং এর ব্যবহারকারীদের মধ্যে কোনও "বিচারবিভাগীয় সম্পর্ক" নেই।

 

দেশের অখণ্ডতাকে প্রভাবিত করে এমন টুইটগুলির গুরুত্ব সম্পর্কে পাবলিক প্রসিকিউটর অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল আর শঙ্করনারায়ণন যুক্তি দিয়েছিলেন যে টুইটগুলিতে "ভারত অধিকৃত কাশ্মীর" এবং এলটিটিই নেতা ভেলুপিল্লাই প্রভাকরনের অস্তিত্বের উল্লেখ রয়েছে।

 

টুইটারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, তারা তাদের ব্যবহারকারীদের পক্ষ থেকে এই অধিকারের পক্ষে যুক্তি দেখিয়েছে। টুইটার আরও যুক্তি দিয়েছিল যে বিদেশী সত্তা হিসাবেও, সংবিধানের ১৪ অনুচ্ছেদের অধীনে তাদের কিছু অধিকার রয়েছে, অর্থাৎ সমতার অধিকার।