চৌবাচ্চায় বাগদা চিংড়ি চাষের কৌশল

author-image
Harmeet
আপডেট করা হয়েছে
New Update
চৌবাচ্চায় বাগদা চিংড়ি চাষের কৌশল

নিজস্ব সংবাদদাতাঃ বাগদা চিংড়ি বাঙালির কাছে এক লোভনীয় এবং সুস্বাদু মাছ। বৈজ্ঞানিকভাবে চিংড়ি মাছকে ''জলের পোকা'' বলা হলেও বাঙালির কাছে এটির স্বাদ অতুলনীয়। এছাড়াও, বাগদা চিংড়ির মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ও পুষ্টিগুন বিদ্যমান। বাগদা চিংড়ি দশপদবিশিষ্ট চিংড়ি গোত্রীয় প্রাণী। পৃথিবীতে ৭ ধরনের পরিবারের ৫৪০ প্রজাতির বাগদা চিংড়ি রয়েছে। এ ধরনের চিংড়ি সর্বোচ্চ ৩৩০ মিলিমিটার বা ১৩ ইঞ্চি এবং ওজনে ৪৫০ গ্রাম বা ১ পাউন্ড হয়ে থাকে। আদর্শ রন্ধনপ্রণালী অনুসরণ করে মনুষ্য খাবার উপযোগী দামী অর্থকরী প্রাণী হিসেবে এর ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে। চিংড়ি তার আবাসস্থলরূপে উন্মুক্ত মৎস্যক্ষেত্রে বিচরণ করে। তবে বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদের জন্য এ চিংড়ি খামারেও উৎপাদন করা হয়। তবে এবার আপনারা বাড়িতেই চৌবাচ্চায় চিংড়ির চাষ করতে পারবেন। বাড়িতে বাগদা চিংড়ি চাষ করার জন্য আপনি মাঝারি সাইজের চৌবাচ্চা ব্যবহার করতে পারেন। তবে খেয়াল রাখবেন চৌবাচ্চাটি যেন গভীর হয়। বছররের যেকোন সময়েই আপনি বাগদা চিংড়ির চাষ করতে পারেন। তবে খেয়াল রাখবেন যে বাগদা চিংড়ির 'পোনা' ছাড়ার ক্ষেত্রে আপনাকে সকাল অথবা সন্ধ্যা এই দুই সময়ের যেকোন একটি সময়কে নির্বাচন করতে হবে। কারণ এইসময় তাপমাত্রা সহনীয় অবস্থায় থাকে। তা না হলে মাছ মরে যেতে পারে। বাগদা চিংড়ি চাষ করার জন্য আপনাকে প্রথমে পোনা সংগ্রহ করতে হবে। এই ক্ষেত্রে আপনি আপনার নিকটস্থ যেকোন নার্সারী হতে পোনা সংগ্রহ করতে পারেন। এছাড়াও আপনি প্রাকৃতিক ভাবে নদী থেকে বাগদা চিংড়ি পোনা সংগ্রহ করতে পারেন। বাগদা চিংড়ি চাষ করার জন্য আপনাকে সঠিক নিয়ম অবলম্বন করতে হবে। যেমন, বাড়িতে চৌবাচ্চায় বাগদা চিংড়ি চাষ করার ক্ষেত্রে আপনাকে প্রথমে বাগদা চিংড়ির পোনাকে পলিব্যাগ সহ কিছুক্ষণ চৌবাচ্চার জলে চুবিয়ে রাখতে হবে। এরপর ব্যাগের জল ও পাত্রের জলের তাপমাত্রা একই মাত্রায় আনতে হবে। তারপর ব্যাগের মুখ খুলে পাত্রের জল অল্প অল্প করে ব্যাগে দিতে হবে এবং ব্যাগের জল অল্প অল্প করে পাত্রে ফেলতে হবে। ৪০-৫০ মিনিট সময় ধরে এরূপভাবে পোনাকে পাত্রের জলের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে হবে। এরপর বাগদা চিংড়ি চাষে আপনাকে নিয়মিত উপযুক্ত খাবার প্রয়োগ করতে হবে। উপযুক্ত এবং নিয়মিত খাদ্য ব্যবহার না হলে তা বাগদা চিংড়ির জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। মাছ স্বাভাবিকভাবে প্রাকৃতিক খাদ্য হিসেবে শ্যাওলা খেয়ে থাকে। তবে আপনি শামুক, ঝিনুক, কেঁচো, স্কুইড, কাঁকড়া, মাংস, ইত্যাদিও তাদের খেতে দিতে পারেন। এছাড়াও চাল, ডাল, গম, ভূট্টা ইত্যাদি দানাদার জাতীয় উদ্ভিজ্জ খাদ্যও চিংড়িকে দেওয়া যায়। বাগদা চিংড়ির বেশকিছু রোগ হয়ে থাকে। মনে রাখবেন চিংড়ির জীবনচক্রে এক বা একাধিক অস্বাভাবিক অবস্থা, চিংড়ির স্বাভাবিক বৃদ্ধিকে ব্যাহত করে। এছাড়াও চিংড়ি চাষে ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক, পরজীবী, ইত্যাদি দ্বারা আক্রমণ হতে পারে। তাই নিয়মিত চিংড়ির যত্ন নিতে হবে। বাগদা চিংড়ি চাষ করার জন্য আপনাকে সঠিক নিয়মে সার দিতে হবে। তা নাহলে বাগদা চিংড়ির বৃদ্ধি বাধাগ্রস্থ হয়ে থাকবে। তাই মাঝেমধ্যে সার দিতে হবে। বাড়িতে চৌবাচ্চায় বাগদা চিংড়ি চাষ করতে হলে এর সাথে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে যে চৌবাচ্চাটির তলদেশকে সবসময় পরিস্কার রাখতে হবে। এছাড়া অসুস্থ চিংড়ি খাদ্য গ্রহন করে না। তাই অসুস্থ চিংড়িকে আলাদা করতে হবে। নিয়মিত জলের তাপমাত্রা ঠিক রাখতে হবে। প্রয়োজনে জল বদল করে দিতে হবে। এভাবেই চিংড়ি চাষ করে লাভবান হতেও পারবেন আপনি খুব সহজেই।