৩২ বছরের পুরনো রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের বিচার মিলল অবশেষে! রায় ঘোষণা করল আদালত

কি ছিল সেই মামলা?

author-image
Anusmita Bhattacharya
New Update
Screenshot 2025-11-13 174015

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্রাম: ১৯৯৩ সালের এক রক্তাক্ত ঘটনার দীর্ঘ ৩২ বছর পর অবশেষে রায় ঘোষণা করল ঝাড়গ্রাম আদালত। সিপিআইএম-এর ৬ কর্মীকে অপহরণ ও খুনের অভিযোগে ঝাড়খন্ড পার্টির ৪৫ জন সদস্যকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিলেন ঝাড়গ্রাম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারক (অ্যাডিশনাল ডিস্ট্রিক্ট জাজ)-২ মহামান্য বিচারক অরবিন্দ মিশ্র। পাশাপাশি প্রত্যেক অভিযুক্তকে ২২ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছিল ১৯৯৩ সালের ৭ মে। সেদিন সকালে সিপিআইএম কর্মী মনোজ গড়াই, বিপুল মাহাত, কার্ত্তিক মাহাত, ডাঃ সৌমেন মুখার্জি, সাধন মাহাত ও বিদ্যুৎ মাহাত বেলপাহাড়ি থানার হিজলার জঙ্গল এলাকায় পার্টির এক ঘরোয়া বৈঠকে যোগ দিতে বেরিয়েছিলেন। ৫টি সাইকেলে চেপে তাঁরা ৬জনই রওনা হয়েছিলেন। কিন্তু বৈঠক শুরু হলেও তাঁরা কেউই পৌঁছাননি। পরে জানা যায়, হিজলার জঙ্গলের পথে তাঁদের অপহরণ করা হয়। পরদিন অর্থাৎ ৮ মে কপাট কাটার জঙ্গল থেকে তাঁদের ক্ষত-বিক্ষত দেহ উদ্ধার হয়। অভিযোগ, ছুরি, বল্লম, লাঠি, তির ইত্যাদি অস্ত্র দিয়ে নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছিল ওই ৬ জনকে। ঘটনার পরদিনই বেলপাহাড়ি থানায় ঝাড়খন্ড পার্টির ১০৩ জন সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়। দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়ার পর আদালত বৃহস্পতিবার ৪৫ জনকে দোষী সাব্যস্ত করে সাজা ঘোষণা করেন। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৪৭, ১৪৮, ১৪৯, ৩৬৪, ৩০২, ২০১, ৩৪ ও ১২০(বি) ধারায় অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। মোট ১০৩ জন অভিযুক্তের মধ্যে ৩৯ জন ইতিমধ্যেই মারা গেছেন, ১৯ জন পলাতক। অবশিষ্ট ৪৫ জনের সাজা ঘোষণা করা হয়েছে।

অভিযুক্তদের পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাঁরা এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন। তাঁদের দাবি, অভিযুক্তরা নির্দোষ, তাঁদের মিথ্যা ফাঁসানো হয়েছে। এই রায়ে ৩২ বছরের পুরনো এক রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের বিচারিক অধ্যায় নতুন মোড় নিল ঝাড়গ্রামে।

Screenshot 2025-11-13 174027