গঙ্গাসাগর মেলাকে হাইটেক করার দৌড়ে প্রশাসন, নবান্নে উচ্চস্তরীয় বৈঠক

গঙ্গাসাগর মেলায় লক্ষাধিক পূর্ণ্যার্থী ও দেশ–বিদেশের পর্যটক আসেন।

author-image
Atreyee Chowdhury Sanyal
New Update
1gangasagar.jpg

File Picture

নিজস্ব সংবাদদাতা: গঙ্গাসাগর মেলাকে আধুনিক ও আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে চলছে জোর প্রস্তুতি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে নবান্নে মুখ্যসচিব মনোজ পন্থের নেতৃত্বে সোমবার অনুষ্ঠিত হল উচ্চস্তরীয় বৈঠক। মেলার পরিকাঠামো, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, নদী পারাপার এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়ন—প্রতিটি খুঁটিনাটি বিষয়ই খতিয়ে দেখা হয় এই বৈঠকে। আগামী সপ্তাহে মুখ্যমন্ত্রী নিজে এই রিপোর্ট পর্যালোচনা করবেন বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।

প্রতি বছর গঙ্গাসাগর মেলায় লক্ষাধিক পূর্ণ্যার্থী ও দেশ–বিদেশের পর্যটক আসেন। সেই ভিড় সামলাতে এবং দর্শনার্থীদের আরও ভালো পরিষেবা দিতে এবার মেলা প্রাঙ্গণকে হাইটেক করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আলোচনায় উঠে এসেছে বিমানবন্দরের মতো মুভিং লাইট বসানোর প্রস্তাব। পাশাপাশি প্রায় ৬০০ ফগ ও লেজার লাইট বসানো, উন্নত নজরদারি ব্যবস্থা এবং আধুনিক আলোকসজ্জার পরিকল্পনাও রয়েছে।

gangasagarmamata

এদিন মুড়িগঙ্গা নদী পারাপার নিয়েও একাধিক সিদ্ধান্ত হয়। নদীর পলি সরানো (ড্রেজিং) কাজ দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে বলে জানানো হয় বৈঠকে। দর্শনার্থীদের সুরক্ষা ও যাতায়াতে স্বস্তি দিতে নৌপরিবহন ব্যবস্থায়ও বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে।

মেলা চত্বরে সড়ক পরিষেবা উন্নত করা, পানীয় জল, শৌচালয়, মেডিকেল ক্যাম্প, কন্ট্রোল রুম, ট্রাফিক রুট পরিকল্পনা এবং ২৪ ঘণ্টা নজরদারি—প্রতিটি বিভাগের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে নবান্ন। মুখ্যসচিব স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “পরিকাঠামো উন্নয়নে কোনও খামতি চলবে না”।

প্রশাসনের লক্ষ্য, এবারের গঙ্গাসাগর মেলাকে শুধু ধর্মীয় নয়, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও সংগঠনের নিখুঁত উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা। এখন নজর মুখ্যমন্ত্রীর পর্যালোচনার দিকে—সেখানেই চূড়ান্ত পরিকল্পনা পাকাপাকি হবে।