/anm-bengali/media/media_files/2025/11/18/unrest-bangladesh-2025-11-18-21-26-21.png)
নিজস্ব সংবাদদাতা: আবারও আগুনে ফেটে পড়ল বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (ICT) শেখ হাসিনাকে ছাত্রবিদ্রোহ দমনে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধে’ মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পর থেকেই উত্তেজনায় জ্বলছে রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত। গত বছরের ছাত্র-আন্দোলনেই ক্ষমতাচ্যুত হন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী হাসিনা। সেই আন্দোলনকারীদের উপর কঠোর দমন-পীড়নের অভিযোগেই তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে আদালত। কিন্তু এই রায় প্রকাশ হতেই রাজপথে নেমে পড়েন তাঁর সমর্থকেরা।
সকাল থেকেই ঢাকার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভকারীরা। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ শুরু হতেই মুহূর্তে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় পুরো শহর। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানাচ্ছেন, বিভিন্ন এলাকায় কাঁদুনে গ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেড আর লাঠিচার্জে আকাশ ভরে ওঠে ধোঁয়ায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওয় দেখা যাচ্ছে, দলে দলে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের তাড়া করছে, রাস্তা জুড়ে ছুটোছুটি, আশপাশে বিস্ফোরণের শব্দ।
সবচেয়ে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ধানমন্ডি–৩২ এলাকা, যেখানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িটি অবস্থিত। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম বলছে, বিক্ষোভকারীরা ওই বাড়ির সামনে মিছিল নিয়ে এগোতেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নামে পুলিশ। সমর্থকরা অভিযোগ করেছেন, তাঁদের শান্তিপূর্ণ মিছিল ঠেকাতে ইচ্ছাকৃতভাবে কঠোর হামলা চালানো হয়েছে।
/filters:format(webp)/anm-bengali/media/media_files/2025/01/10/VSNoMC2zmPb8HxzuW93i.jpeg)
পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন আওয়ামী লীগ কর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায় ‘জাতীয় ছাত্র শক্তি’— সেই ছাত্রনেতাদের সংগঠন, যারা গত বছর হাসিনা সরকারের পতনে মুখ্য ভূমিকা নেয়। মহম্মদ ইউনুস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগকে আগেই নিষিদ্ধ করেছে, ফলে রায় প্রকাশের আগের দিনই দলটি দেশজুড়ে দুই দিনের ধর্মঘট ডাকেছিল। হাসিনার অভিযোগ, এই রায় রাজনৈতিকভাবে তাঁকে টার্গেট করে দেওয়া হয়েছে।
রায়ের পর পুরো ঢাকা যেন আতঙ্কে ঢাকা পড়ে। দোকানপাট বন্ধ, সড়কে যান চলাচল বন্ধ হওয়ার উপক্রম। পুলিশের পাশাপাশি দ্রুত মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত নিরাপত্তাকর্মী। বহু লোক আশঙ্কা করছেন, পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ বাড়ছে বাংলাদেশের অস্থিরতা নিয়ে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কোন দিকে, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। শেখ হাসিনা কি আইনি লড়াইয়ে নামবেন, নাকি পরিস্থিতি আরও অগ্নিগর্ভ হবে— তা এখন সময়ই বলবে। তবে আপাতত যা পরিষ্কার, ICT–র রায় দেশকে নতুন করে সহিংস সংঘর্ষের সামনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
/anm-bengali/media/agency_attachments/IpyOoxt2orL626OA8Tlc.png)
Follow Us