ঢাকায় কাঁপুনি! ফাঁসির সাজার পর প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ২১ বছরের জেল

ঢাকায় প্লট দুর্নীতির তিন মামলায় প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ২১ বছরের কারাদণ্ডের রায় দিল বিশেষ জজ আদালত। রায় ঘোষণাকে ঘিরে ঢাকায় কড়া নিরাপত্তা, রাজনীতিতে শুরু তীব্র আলোড়ন।

author-image
Tamalika Chakraborty
New Update
Sheikh Hasina

নিজস্ব সংবাদদাতা: ঢাকায় প্লট দুর্নীতির ঘটনায় ইতিহাস সৃষ্টি হল বৃহস্পতিবার। তিনটি মামলায় বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-কে মোট ২১ বছরের কারাদণ্ডের রায় দিল আদালত। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন এই রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার আগেই গোটা ঢাকায় তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়। আদালত চত্বর ঘিরে রাখা হয় কড়া নিরাপত্তায়। অতিরিক্ত পুলিশ ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।

এই তিনটি মামলায় একমাত্র কারাগারে থাকা অভিযুক্ত ছিলেন রাজউকের প্রাক্তন সদস্য মোহাম্মদ খুরশীদ আলম। গত রবিবার তাঁর পক্ষে যুক্তিতর্ক শেষ হওয়ার পরই রায়ের দিন ধার্য করা হয়। অন্য অভিযুক্তরা এখনও পলাতক থাকায় তাঁদের পক্ষে কোনও যুক্তিতর্ক আদালতে পেশ করা হয়নি। আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পেলেও তাঁরা নিজেদের নির্দোষ প্রমাণ করতে পারেননি। দুর্নীতি দমন কমিশনের পক্ষ থেকে প্রসিকিউটর স্পষ্ট জানান, তাঁরা আসামিদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ সাজা অর্থাৎ যাবজ্জীবন কারাদণ্ডই চেয়েছিলেন। অন্যদিকে খুরশীদ আলমের আইনজীবীর দাবি ছিল, তাঁর মক্কেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণে দুদক ব্যর্থ হয়েছে।

sheikh hasina hjk.jpg

আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্লট বরাদ্দ নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগে মোট ছ’টি মামলা দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশন। ওই সমস্ত মামলায় শেখ হাসিনার পাশাপাশি তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ, বোন শেখ রেহানা, শেখ রেহানার মেয়ে তথা ব্রিটিশ সংসদ সদস্য টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক, ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক এবং আর এক মেয়ে আজমিনা সিদ্দিকসহ একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করা হয়।

গত ৩১ জুলাই তিনটি মামলায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করা হয় ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এ। বাকি তিনটি মামলায় অভিযোগ গঠন হয় অন্য একটি বিশেষ আদালতে। মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১৪ জানুয়ারি শেখ হাসিনাসহ আটজনের বিরুদ্ধে প্রথম মামলা দায়ের হয়েছিল। পরে তদন্তে আরও চারজনের নাম উঠে আসে। সব মিলিয়ে বারোজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেয় দুদকের তদন্তকারী দল। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন করে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।