২০১৪ সালের গাজা যুদ্ধের সেনা লেফটেন্যান্টের দেহ ফেরাল হামাস, চাঞ্চল্য ইজরায়েলে

১১ বছর পর ইজরায়েলে ফিরল লেফটেন্যান্ট হাদার গোল্ডিনের দেহ। গাজা যুদ্ধের সময় নিহত এই সেনার দেহ ফেরাল হামাস। যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে রেড ক্রসের মাধ্যমে দেহ হস্তান্তর, শুরু ডিএনএ পরীক্ষা। শোক ও প্রতীক্ষায় ইজরায়েলি পরিবার।

author-image
Tamalika Chakraborty
New Update
israel army body

নিজস্ব সংবাদদাতা: ১১ বছর পর অবশেষে দেশে ফিরল ইজরায়েলি সেনা লেফটেন্যান্ট হাদার গোল্ডিনের দেহ। দীর্ঘ এক দশক ধরে গাজায় আটকে ছিল তাঁর দেহ, দাবি হামাসের। রবিবার ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর দফতর জানায়, গাজা থেকে ফেরত পাওয়া দেহটি হাদার গোল্ডিনের বলেই দাবি করেছে হামাস, যদিও ইজরায়েলি কর্তৃপক্ষ এখন ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে তাঁর পরিচয় যাচাই করছে।

২০১৪ সালে গাজা যুদ্ধের শেষ পর্যায়ে নিহত হন ইজরায়েলি সেনা অফিসার হাদার গোল্ডিন। তারপর থেকেই তাঁর দেহ গাজার নিয়ন্ত্রণে ছিল। হামাসের দাবি, যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবেই এবার ফেরানো হয়েছে ওই দেহ।

রবিবার হামাস যে দেহটি ফেরায়, সেটি আন্তর্জাতিক রেড ক্রসের মাধ্যমে ইজরায়েলি সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হয়। ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, “দেহটি ফেরত পাওয়ার পরপরই পরিচয় নির্ধারণের প্রক্রিয়া শুরু হবে।”

hamas aa

ইজরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবেই এই হস্তান্তর সম্পন্ন হয়েছে। গত এক মাস ধরে চলা ভয়াবহ সংঘর্ষের পর এই চুক্তির ফলে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে অঞ্চলে।

হাদার গোল্ডিনের পরিবার শনিবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “আমরা শুধু অপেক্ষা করছি, হাদার যেন ফিরে আসে। ইজরায়েলি সেনার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চলছে তাঁকে ফেরানোর জন্য।”

প্রতিরক্ষা সূত্রের দাবি, এটি হামাসের একটি কৌশল হতে পারে যুদ্ধবিরতির পর আন্তর্জাতিক চাপে নিজেদের ভাবমূর্তি ঘোচানোর। তবে ইজরায়েলি প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, “যে দেহটি ফেরত এসেছে, সেটি সত্যিই হাদার গোল্ডিনের কিনা তা পরীক্ষার পরেই নিশ্চিত হওয়া যাবে।”

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের গাজা যুদ্ধে গোল্ডিন নিহত হওয়ার পর থেকে ইজরায়েল ও হামাসের মধ্যে একাধিকবার দেহ ফেরানোর আলোচনা হলেও তাতে কোনও ফল মেলেনি। অবশেষে এক দশক পর, যুদ্ধবিরতির সুযোগে সম্পন্ন হল বহু প্রতীক্ষিত এই দেহ হস্তান্তর।

তবে এই ঘটনার পর মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক আবহে ফের উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। অনেকের মতে, এটি কেবল মানবিক পদক্ষেপ নয়, বরং হামাস ও ইজরায়েলের মধ্যে নতুন রাজনৈতিক চালচিত্রের সূচনা।