পাকিস্তান জঙ্গি তৈরি করছে! গর্জে উঠলেন খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোয়েল আফ্রিদি অভিযোগ করেছেন যে ইসলামাবাদ সাজানো জঙ্গি হামলা চালিয়ে রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধি করছে।

author-image
Tamalika Chakraborty
New Update
breaking new 2

নিজস্ব সংবাদদাতা: পাকিস্তানের সন্ত্রাসনীতি নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী সোয়েল আফ্রিদি। তাঁর দাবি, ইসলামাবাদ ইচ্ছাকৃতভাবে প্রদেশজুড়ে সাজানো জঙ্গি হামলার নাটক করছে এবং এই নকল সন্ত্রাসের মাধ্যমেই কেন্দ্রীয় সরকার নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধি করছে। আফ্রিদির বক্তব্য অনুযায়ী, খাইবার অঞ্চলে যে সমস্ত হামলা ঘটছে বলে দেখানো হয়, তার বড় অংশই “ফেক” বা “বানানো”।

আফ্রিদির এই মন্তব্যের সময়ই কেপি প্রদেশের পরিস্থিতি অত্যন্ত অস্থির। আফগানিস্তানের সীমানা লাগোয়া এই অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরেই সহিংসতার মুখে। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, ইসলামাবাদের কিছু শক্তিশালী গোষ্ঠী ইচ্ছে করেই স্থিতাবস্থা ফেরাতে দিচ্ছে না। কারণ অশান্তি বজায় থাকলে তাদের হাতেই থাকে ক্ষমতা ও নিয়ন্ত্রণ।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, খাইবারে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য আয়োজন করা হয়েছিল একটি বড় "পিস জিরগা"—যেখানে নেতারা ও প্রবীণরা মিলিত হয়ে সমঝোতার পথ খুঁজছিলেন। সেই বৈঠকে অংশ নিতে আসা পাস্তুন তাহাফুজ মুভমেন্ট (PTM)-এর কয়েকজন সদস্যকে অপহরণ করেছে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলো। আফ্রিদি বলেন, এই অপহরণই প্রমাণ করে যে পাকিস্তানের কেন্দ্র কখনও খাইবারে শান্তি চায়নি।

pakistan cm

মুখ্যমন্ত্রীর ভাষায়, “৭১ বছর ধরে পাকিস্তানের যে মানসিকতা চলে আসছে— তা কখনও এই অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠা হতে দেয়নি। আমাদের অতিথিদের অপহরণ করে তারা প্রমাণ করল, সন্ত্রাস তৈরি করাও তাদের নিজেদের স্বার্থের জন্যই।” আফ্রিদি বলেন, ইসলামাবাদের ‘ঘনিষ্ঠ চক্র’ নিজেদের উদ্দেশ্য পূরণে সন্ত্রাসকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে এবং এই ‘মনগড়া জঙ্গি হামলা’ জনগণের বিরুদ্ধে চাপ তৈরি করার একটি রাজনৈতিক অস্ত্র।

তিনি আরও যোগ করেন, “খাইবার পাখতুনখোয়ার মানুষ এই সাজানো সন্ত্রাসে ক্লান্ত। বছরের পর বছর আমাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্ত আর চলবে না। ইমরান খানের মতো আমিও মাথা নত করব না। যে কেউ আমাদের শান্তি নষ্ট করবে, সে-ই আমাদের শত্রু।”

উল্লেখযোগ্যভাবে, এর মাত্র দু’মাস আগে পাকিস্তান এয়ার ফোর্সের বোমাবর্ষণে কেপি-র তিরাহ ভ্যালির মাতরে দারা গ্রামে অন্তত ৩০ জন নিরীহ মানুষ—মহিলা ও শিশুসহ—মারা যান। সেই ঘটনার রেশ কাটার আগেই নতুন করে সরকারের বিরুদ্ধে এমন প্রকাশ্য অভিযোগে রীতিমতো তোলপাড় পাকিস্তানের রাজনীতি।